গ্রীন টি মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে, যা শরীরের অতিরিক্ত চর্বি পোড়ানোর কার্যকারিতা বাড়ায়। বিশেষ করে এতে থাকা ক্যাফেইন এবং ক্যাটেচিন যৌগ শরীরের তাপ উৎপাদন (থার্মোজেনেসিস) বাড়িয়ে ক্যালোরি পোড়ানোর হার বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রীন টি পান করলে বিশেষ করে পেটের চর্বি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
গ্রীন টি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ায়। এটি রক্তনালীকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে, যা রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখতে সহায়ক। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।
গ্রীন টিতে উচ্চমাত্রার পলিফেনল এবং ক্যাটেচিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের কোষগুলোকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীন টি নিয়মিত পান করলে স্তন ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমতে পারে।
গ্রীন টিতে থাকা ক্যাফেইন মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে, তবে এটি কফির মতো অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি করে না। এছাড়া এতে L-theanine নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা মস্তিষ্কে আলফা তরঙ্গ উৎপন্ন করে, মানসিক চাপ কমায় ও রিলাক্স করতে সাহায্য করে। গ্রীন টি আলঝেইমার ও পারকিনসন রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীন টি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত গ্রীন টি পান করেন, তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমতে পারে।
গ্রীন টিতে থাকা পলিফেনল ও ক্যাটেচিন পাচনতন্ত্রকে সক্রিয় করে এবং হজম ক্ষমতা উন্নত করে। এটি গ্যাস, বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
গ্রীন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন C শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ঠান্ডা, সর্দি-কাশি ও অন্যান্য সংক্রমণের বিরুদ্ধে এটি কার্যকরী হতে পারে।
গ্রীন টিতে উপস্থিত L-theanine নামক অ্যামিনো অ্যাসিড মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এটি স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ হ্রাস করে। তাই কাজের ফাঁকে এক কাপ গ্রীন টি মনকে প্রশান্ত করতে দারুণ কার্যকরী হতে পারে।
গ্রীন টির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের বার্ধক্য রোধ করে, ব্রণ কমায় এবং ত্বককে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করে তোলে। নিয়মিত গ্রীন টি পান করলে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়া কমে যায়।
গ্রীন টি লিভারের জন্য উপকারী, কারণ এটি লিভারে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করে। এটি ফ্যাটি লিভার ডিজিজ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
গ্রীন টি শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যকর পানীয় নয়, এটি শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি নিয়মিত পান করলে ওজন নিয়ন্ত্রণ, হৃদরোগ প্রতিরোধ, মানসিক প্রশান্তি এবং দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে অতিরিক্ত গ্রীন টি পান না করাই ভালো, কারণ এতে থাকা ক্যাফেইন অতিরিক্ত গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা ও হজমজনিত অসুবিধা হতে পারে। সঠিক মাত্রায় ও নিয়মিত গ্রীন টি পান করলে এটি আপনার দৈনন্দিন জীবনে এক স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে।